ফারজানা হাবীব লাবন্য

উন্নয়ন কর্মী

বিয়ের প্রলোভনে-প্রতিশ্রুতিতে ধর্ষণ-এর আদি অন্ত

প্রেম সুন্দরতম ব্যাপার। একটা মানুষ সত্যিকারের প্রেমে পড়লেই তার চারপাশটা নান্দনিক হয়ে ওঠে। নির্মল আনন্দ উপভোগ করতে পারে মানুষ শুধুমাত্র প্রেমে পড়লেই। প্রেম শুধুই মানসিক বা হৃদয়ঘটিত আকর্ষণ না শারীরিক আকর্ষণও বটে। দুটো মানুষ সম্পর্কে থাকলে উভয় পক্ষের তীব্র আকর্ষণ থেকেই  শারীরিক সম্পর্কে যেতে পারে, কোনো প্রতিশ্রুতি বা প্রলোভন থেকে নয়।

প্রতিশ্রুতি হচ্ছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকা। কথা দেওয়া ও কথা রাখা। এই কথা দেওয়া, কথা রাখা একটা চুক্তি। এই চুক্তিতে আপনি যদি বিশ্বাসীই হতেন তবে আপনি বিয়ে সংস্কৃতিতেও বিশ্বাসী হতেন এবং অপেক্ষা করতেন। যেহেতু আপনি তা করছেন না। যেহেতু বিবাহপূর্ব শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হচ্ছেন। যেহেতু স্বেচ্ছায় আনন্দ দিচ্ছেন এবং পাচ্ছেন। তো এইসব আনন্দের ঘোর কেটে গেলে ও আমাকে ব্যবহার করেছে, ও আমাকে বিয়ের কথা বলে ধর্ষণ করেছে, বেইমানী করেছে এইসব বাখোয়াজ কথাবার্তা বলা থেকে বিরত থাকুন। 

মেয়েদের এইসব অসহায়ত্বের কান্না বলি আর ন্যাকা কান্নাই বলি এর জন্য সমাজও দায়ী। একটা মেয়েকে সেই ছোট থেকে জীবনের লক্ষ্য বলতে বোঝানো হয় বিয়ে হওয়া, স্বামী সেবা করা, সংসার ধর্ম ঠিকঠাক পালন করাই হলো মেয়েদের আসল জীবন। শৈশব থেকেই একটা মেয়ের যাবতীয় ভার্জিনিটি আছে তার শরীরের স্পর্শকাতর অংশে এইটা বিশ্বাস করতে বাধ্য করা হয়। মেয়ের যোনীতে থাকা হাইমেন পর্দা কোনভাবে ছিঁড়লে তার ভার্জিনিটি নাই, তার জীবন শেষ, মূল্যহীন এবং গৌরবের না এইটা মনে প্রাণে বিশ্বাস করিয়ে বড় করে তোলা হয়। এছাড়া বিবাহ পূর্ব শারীরিক সম্পর্ক নিয়ে ধর্মীয় বিধিনিষেধ ও সমাজের কড়া শাসন তো আছেই।

তো এইসব একটা মেয়ের মন ও মস্তিস্ককে দূর্বল করে তোলে। সে দিনের পর দিন একটা টক্সিক সম্পর্ক চালিয়ে নেয় শুধু মাত্র ছেলেটার সাথে তার শারীরিক সংস্পর্শ ঘটেছে এই কারণে। অথচ একটা মেয়ে প্রেমিকের দ্বারা প্রতারিত হতে পারে, ট্রাপে পড়তে পারে, ব্ল্যাকমেইলড হয়েও জোরপূর্বক কনসেন্ট দিতে পারে। কিন্তু সেইটা এখানে ম্যাটার করছে না। ম্যাটার করছে সে শারীরিকভাবে জড়িয়ে গেছে। সে আর এখান থেকে বের হতে পারবে না। এই পুরুষটিকেই তার বিবাহ করতে হবে, অন্যায়-অত্যাচার সহ্য করে এই এ্যাবিউসিভ মানুষটার সাথেই তার থাকতে হবে। তা না হলে ইহকাল পরকাল অসম্মানের, লজ্জার।

এখানে সমাজের তৈরি করা আরো কিছু আতঙ্ক থেকে যায়। যেমন, অন্য কোথাও সম্পর্কে জড়ালে তার শারীরিক গঠনের পরিবর্তন গুলো অন্য প্রেমিক বা স্বামী সহজে মেনে নিতে পারবে না। সেই স্বামীর কাছে, স্বামীর পরিবারটির কাছে মেয়েটির ওয়েল এক্সসেপ্টনেস বা রেসপেক্ট থাকবে না। সবাই তার দিকে দুশ্চরিত্রা, ইউজড নোংরা শব্দ ব্যবহার করবে। যেইটা প্রায়শই কোনো ডিভোর্সি মেয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।

মাথার মধ্যে এরকম ইনসিকিউরড চিন্তাবলী নিয়ে সে ওই টক্সিক সম্পর্কই কন্টিনিউ করে। সে সাহসী হয়ে উঠতে পারে না। প্রেমিকের হাজার হাজার অনৈতিক আবদার মেনে নেয়, নিজের সেল্ফ রেসপেক্ট বিসর্জন দিয়ে প্রেমিকের দেওয়া গন্ডীর মধ্যে শ্বাসরুদ্ধকর জীবন অতিবাহিত করে। এই যে সবকিছুই ময়না পাখির মতো মেনে নেওয়ার পরও যখন প্রেমিক বা স্বামীর দ্বিচারিতা বা তার দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার আশঙ্কা থাকে তখনই নিজেদের ইনসিকিউরিটি থেকে মেয়েরা আদাজল খেয়ে আইনী সহায়তা চায়। তার বোধোদয় হয় -তার আর হারানোর কিছু নাই, দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। যে অন্যায়টার প্রতিবাদ করার দরকার ছিলো একদম শুরুতে, সেইটার টনক নড়ে একদম শেষ পর্যায়ে এসে। ততদিনে নিজের আত্মসম্মান নিজের কনফিডেন্স নিজের অভ্যান্তরীন ইচ্ছে-স্বপ্ন সব জলাঞ্জলী দেওয়া শেষ। মেয়েদের ইনসিকিউরিটির মূল ভাবনা এবং ঘুরে দাঁড়ানোর বাঁক মূলত এখান থেকেই। এই সকল ইনসিকিউরিটি থেকেই মূলত বিচারব্যবস্থায় এই ধরনের আইন তৈরি হয়।

অথচ সম্পর্ক সুন্দর বিষয়। সেক্স সম্পর্কের একটা সুন্দর অংশ হতে পারে। শুধুমাত্র কোনো এক সময় সেক্স হয়েছে বলেই যে একজন এ্যাবিউজারকে যার প্রতি বর্তমানে ইমোশনাল এ্যাটাচমেন্ট নেই, বিশ্বাস নাই, শ্রদ্ধা নেই, ভালোবাসা নেই তাকে জীবনের মতো গুরুত্বপূর্ণ জার্নিতে এক্সেস দিতে হবে এমন কোনো কথা নাই। যে আপনার মূল্য বুঝবে না, সম্মান করবে না তাকে প্রেমের কোনো এক সুন্দর সময়ের মধ্যে ঘটে যাওয়া কয়েক মুহুর্তের ঘটনার রোমন্থন করে পাশে নিয়ে চলাটা বোকামী। নিজের প্রতি করা অন্যায়। কিন্তু এই সহজ বিষয়, সহজ বোঝাপড়াটাই আমরা বুঝতে পারছি না। কেনো?

কারণ, আমাদের স্যোসাল ডাইমেনশন এখনো সকল নারীদের জন্য সমান না। সমাজের প্রত্যেকটা নারীর ব্যক্তিত্ববোধ, সাহস,  বোঝাপড়া, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পারিবারিক-পারিপাশ্বিক সাপোর্ট সমান না। শহরের নানা জ্ঞানে প্রিভিলেজড নারীরা এবং গ্রামে মফস্বলে পিছিয়ে পড়া নারীর যুক্তি, জ্ঞান, ধারনা, সারভাইবল হিস্ট্রি সমান না। আজকের যে মামলা প্রিভিলেজডদের জন্য সংস্কার হওয়া উচিত বলে মনে হচ্ছে সেই মামলা গ্রামের অশিক্ষিত সখীনা জরিনা যে বাসাবাড়িতে কাজ করতে গিয়ে বাড়ির মালিকের প্রতিশ্রুতি-প্রলোভনে পড়ে ধর্ষণ হয়, সুযোগ সুবিধা পাওয়ার লোভে বা ক্ষমতা দাপট দেখিয়ে যার সাথে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়  তার জন্য সমান না, সেক্ষেত্রে কি করা যেতে পারে?

অবশ্যই "বিয়ের প্রলোভনে/প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণ" শব্দগুলো প্রশ্নবিদ্ধ। বিয়ে একটা সামাজিক চুক্তি, যেখানে দু‘জন প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষ একসাথে থাকার বৈধতা পায়। সংসার জটিল ক্ষেত্র। ওই একসাথে থাকা সুখের নাও হতে পারে। একা থাকাটাও পরম আনন্দের হতে পারে। সুখ বিষয়টাই ব্যক্তিভেদে আপেক্ষিক। তো এখানে কখনোই "বিয়ে" প্রলোভনের বিষয় হতে পারে না। 

সমাজকে এই গঁৎবাধা ধারনা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। ঘরে ঘরে সচেতনতা প্রয়োজন। গবেষণা প্রয়োজন। গ্যাপটা কোথায়? মেয়েদের এত এত ইনসিকিউরিটি কেনো? কেনো শুধুমাত্র বিয়ে হওয়াকেই তারা জীবন-যাপনের একমাত্র উদ্দেশ্য হিসেবে ধরে নিচ্ছে! পরিবার, পাঠ্যপুস্তক, বিভিন্ন দাতব্য-উন্নয়নশীল সংস্থা এবং গণমাধ্যম এইখানে ভূমিকা রাখতে পারে। কেনো একজন উচ্চশিক্ষিতা মেয়ে, একজন স্বনির্ভর কর্মজীবি মেয়ে হয়েও টক্সিক সম্পর্কে যাচ্ছে, মেনে নিচ্ছে, প্রলোভনে পড়ছে, ভুল করছে। গোটা সাব কন্টিনেন্টের মেয়েরাই এই একই সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে! কেনো?

মূলত "বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ" নামক মামলা করে দুই শ্রেণির নারীরা। তাদের মধ্যে একশ্রেণী অশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত এবং প্রায় সময়ই সিন্ড্রেলা কমপ্লেক্সসিটিতে ভোগে। এরা নিজেদের সর্বংসহা ও পুরুষের সেবক ভাবতে পছন্দ করে। পুরুষ মানুষ এমনই এইটা ধরে এরা এদের প্রতি করা অন্যায়, অবহেলা, অনীহা, যৌন সহিংসতা মাথা নিচু করে মেনে নেয়। এরা ইন্টিলিজেন্ট না, ইমোশনাল হয়। এরা সাহসী না, এদের নিজেদের ইমোশনের প্রতি সেল্ফ কন্ট্রোলও নেই, সেল্ফ রেসপেক্টও নেই। অথচ নিজের প্রতি ঘটে যাওয়া প্রতারণা এড়াতে ইমোশনালের পাশাপাশি ইন্টেলিজেন্ট হতে হয়। কথা বলতে হয়, যুক্তি দিয়ে ভাবতে হয়, প্রতিবাদ করতে হয়, রুখে দিতে হয়। নিজের সাথে নিজের শক্ত বোঝাপড়াটাও থাকতে হয়।

এই শ্রেণির পাশাপাশি আর এক শ্রেণিকে প্রায়শই "বিয়ের প্রলোভনে বা প্রতিশ্রুতিতে ধর্ষণ" শব্দগুলো ব্যবহার করতে দেখা যায়। তারা মূলত শুরুর দিকে গ্যামোফোবিয়ায়" আক্রান্ত থাকে। "গ্যামোফোবিয়া" নামক সাইকোলজিক্যাল টার্মটি মূলত বিবাহভীতি বা সম্পর্কে চূড়ান্ত কমিটমেন্ট ভীতি। প্রজন্মের এক অংশ চুটিয়ে প্রেম করছে, সেক্স করছে, লিভিং করছে কিন্তু কোনো ফাইনাল কমিটমেন্ট বা বিয়ে করছে না এক ধরনের ভীতি থেকে। এরা প্রচন্ড উচ্চমার্গীয় ভাবনাবিলাসী হয় এবং এদের আকাঙ্খা ও বাস্তবের সংযোগে অসামঞ্জস্যতা রয়েছে। এরা বেশিরভাগই ডিপ্রেসড এবং সেক্সুয়ালি ফ্রাস্টেটেড হয়। 

অবাক করা বিষয় হচ্ছে এরা শিক্ষিত, ইনটেলিজেন্ট এবং বেশিরভাগই স্যাপিওসেক্সুয়ালিটি বিলং করে বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। তো তারা সম্পর্কে যাচ্ছে কোন ম্যাচিউরড অবস্থান থেকে। তারপর ভালোবাসার কথা বলে, একসাথে জীবন সুন্দর করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে, একসাথে গান কবিতা শিল্পচর্চা, চাঁদ-তারা-সূর্য দেখে বর্তমান মুহুর্ত উপভোগ করছে। ম্যাচিউরড অবস্থান থেকেই দু‘জনের ইচ্ছায় একটা নিরাপদ সম্পর্কে থেকে ফ্রী মেলামেশাকে স্বাভাবিক করছে। ক্ষনিকের জন্য একজন অন্যজনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হচ্ছে। দু‘জন দু‘জনকে ছাড়া কিছুই ভাবতে পারছে না। আবার তাদের একপক্ষ মুক্ত চিন্তার ফিরিস্তি গেয়ে শুধুমাত্র শরীরের তাড়না বা তাগিদের দোহাই দিয়ে পার্টনারকে সবকিছু নরমালি নিতে বাধ্য করছে। 

যেহেতু এইটা একটা প্রক্রিয়া এবং একটা অভ্যেস তো সময়ের প্রয়োজনেই এখানে ইমোশনাল এ্যাটাচমেন্ট তৈরি হচ্ছে। হয়তো সেটা একপক্ষ থেকে হচ্ছে এবং অন্যপক্ষ এই অনুভূতি স্বাভাবিকভাবে উড়িয়ে দিচ্ছে। শুরু হচ্ছে ইমোশনাল এবং ইন্টিলেজিন্সির দ্বান্দ্বিক অবস্থান। কখনো কখনো দু‘পক্ষের মধ্যে মিউচুয়ালি সেপারেশন হচ্ছে। আবার অনেক সময়ই একপক্ষ অন্যপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করছে "বিয়ের প্রলোভনে-প্রতিশ্রুতিতে ধর্ষণ"। আবার এখানে বাজে ব্যাপারটা হচ্ছে এখানে শুধু ইমোশনাল এ্যাটাচমেন্টের ঘাটতিই থাকছে না, ব্যক্তিগত স্বার্থও থাকছে, অর্থ দাবী থাকছে, পারিবারিকভাবে হেনস্তা থাকছে। ভয়াবহ ব্যাপার স্যাপার।

এইসব ব্যাপার স্যাপারের শেষ নাই। ইনবক্সে যেসব মেয়েরা নানা সময় সাপোর্ট চায়, যেসব কেসগুলো সরাসরি ডিল করি তাদের বেশিরভাগের গল্পগুলো এমনই। সবশেষে মোদ্দা একটা কথাই বলতে চাই, আপনি একজন প্রাপ্ত বয়স্ক, প্রেম বোঝেন, সম্পর্কের বোঝাপড়া মানেন, টক্সিক ব্যাপারগুলো আইডেন্টিফাই করতে পারেন, প্রতারণা প্রবঞ্চনা ধরতে পারেন এমন মানুষগুলো দয়া করে "বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ" টার্মটি ব্যবহার করবেন না। "বিয়ে" প্রলোভনে পড়ার মতো কিছু হতে পারে না আর কনসেন্ট নিয়ে সেক্স করা কখনোই ধর্ষণ হতে পারে না। 

যদি সম্পর্কে থেকে প্রতারিত হচ্ছেন বা ট্রাপে পড়ে জড়িয়ে গেছেন, ব্লাকমেইলড হচ্ছেন, টক্সিক বিষয় ডিল করছেন এমন মনে হয় তবে পরদিনই যাবতীয় প্রমাণাদি নথিপত্র নিয়ে আইনী সহায়তা নিন, জিডি করেন, মামলা করেন। কোনো ধরনের সাপোর্ট লাগলে নিঃসংকোচে জানাতে পারেন। পাশে থাকবো।

আপনি একটা টক্সিক সম্পর্কেে আছেন এইটা আপনারই মস্তিষ্ক দিয়ে বুঝতে হবে। শক্ত হতে হবে। বের হওয়ার উপায় খুঁজতে হবে। প্রতিবাদ করতে হবে। আইনি সহায়তা নিতে হবে।

ধর্ষণ এবং প্রতারনা দুইটা আলাদা বিষয়। দুইটাই ঘোরতর অন্যায়। তবে বিচারব্যবস্থায় শাস্তির তারতম্য আছে। প্রতারণা বাইরের দেশগুলোতে একটা ভয়াবহ ক্রাইম আমাদের দেশে এই ক্রাইমটাকে অনেকটা হালকা হিসেবে ধরা হয়। সর্বোচ্চ শাস্তি মাত্র ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড। এইগুলা নিয়ে কথা বলতে পারেন। বিচার ব্যবস্থাকে প্রতারণার শাস্তি আরো কঠিন করতে চাপ প্রয়োগ করতে পারেন। তবে দোহাই লাগে, প্রতারণার সাথে ধর্ষণকে মিলিয়ে ফেলবেন না। এতে ধর্ষণ নামক শব্দটা হালকা হয়ে যায়। একারণেই নারকীয়ভাবে যৌন সহিংসতার শিকার হওয়া অনেকেই ন্যায়বিচার পাচ্ছে না।

আজকাল প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও ধর্ষণ হচ্ছে, হয়ে আসছে। শহীদ মিনারে পড়ে থাকছে শিশু মীমের লাশ, ক্যান্টনমেন্টে তনুর লাশ, ব্লেড দিয়ে যৌনাঙ্গ চিড়ে ধর্ষণ করে ছোট্ট পূজাদেরও মেরে ফেলা হচ্ছে। আমরা বিচার পাচ্ছি না। বিচার না পেয়ে কতজন নিজেকে শেষও করে দিচ্ছে! দিনের পর দিন তাদের পরিবার ভুগছে। আমরা বছরের পর বছর দশকের পর দশক বিচার চেয়ে চিৎকার করছি, শাস্তি বাড়ছেও কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না, এই নারকীয় যৌন সহিংসতা বাড়ছেই। সেখানে "ধর্ষণ" শব্দটাকে হালকা করে উপস্থাপন করে নারীর প্রতি করা ন্যায়বিচারের পথ ঘোলাটে বা জটিল করবেন না। প্রতারণা আর ধর্ষণ ভিন্ন ভিন্ন ক্রাইম।

সম্পর্কে যাওয়ার আগে ভাবুন, সেক্সের আগে ভাবুন, সেক্সের পরেও ভাবুন, বিবেককে প্রশ্ন করুন, নিজের সাথে কথা বলুন। অবশ্যই আত্মনিয়ন্ত্রণ ও আত্মসম্মান ধরে রাখুন। শুভকামনা। 

বিঃদ্রঃ  গোটা লেখাটাই একটা মেয়ের সাইকোলজি থেকে লেখা। তবে কোনো ছেলেও একই মামলায় প্রতারিত হতে পারে। এই দায় কেউ এড়াতে পারে না।

868 times read

নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।