পুষ্পিতা মন্ডল

বর্তমানে প্রবাসী পুষ্পিতা বাংলাদেশ সরকারের সাবেক কর্মকর্তা ছিলেন।

দীর্ঘ সময় একই সেনেটারী ন্যাপকিন ব্যবহার করা উচিত নয়

সেদিন একটা গ্রুপে একটা পোল গঠন করা হয়েছিলো মেয়েরা নরমালি কতোক্ষণ স্যানিটারি ন্যাপকিন পরে থাকে। তাতে বেশিরভাগ মেয়ে ভোট দিয়েছে ৮-১০ ঘন্টা তারা একই ন্যাপকিন পরে থাকে। অনেকে আরও বেশি। কেউ ২৪ ঘন্টা পরে থাকে। কি ভয়ংকর বিষয়। ন্যাপকিন ৫/৬ঘন্টার বেশি পরে থাকা ঠিক না। সেখানে এতো এতো সময় পরে থাকা মানে জরায়ু ইনফেকশন, ইরিটেশন, ভ্যাজাইনাল ইস্ট ইনফেকশন, ‍‍র‌্যাশ নেমন্তন্ন করে আনা।
 
অনেকে আবার ন্যাপকিনের উপরে টিস্যু ইউজ করে। দ্রুত ফেলে দেওয়া যায় টিস্যু আর ন্যাপকিন একটা অনেক সময় ইউজ করা যায় বলে। এইটা আরও খারাপ। টিস্যু মেল্ট হয়ে ভেতরে চলে যেতে পারে। এইটা আগেও বলেছি।
 
এসব করার কারণ অবশ্যই খরচ। ন্যাপকিনের অনেক দাম। প্রতিমাসে এতোগুলা টাকা খরচ করতে হয়তো অনেকেই চাইবেন না। কিন্তু এইটা হেলথ ইস্যু। আপনাদেরই নিজের যত্ন নিজের করতে হবে। স্কটল্যান্ডে সেদিন পৃথিবীর প্রথম দেশ হিসেবে স্যানিটারি ন্যাপকিন ফ্রি করে দিলো। আর আমাদের দেশে দাম বাড়ে। অথচ এর দাম হওয়া উচিত ছিলো হাতের নাগালে। এর সমাধান আদৌ হবে না। কাজেই নিজের কথা নিজেই ভাবেন।
 
আমার নিজের ভার্সিটিতে পড়ার সময় হ্যাভী ব্লিডিং হতো। মাসে আমার দুই প্যাকেট ন্যাপকিন লাগতো। হ্যাঁ দুই প্যাকেট, আমার লিটারেলি মনে হতো ন্যাপকিন কিনতে কিনতে আমি ফতুর হয়ে যাবো। কিন্তু এই টিস্যু বা অমুক তমুক এসব করি নি।
 
অনেকে অনেক কম ব্লিডিং হয় বলেও দীর্ঘক্ষণ ন্যাপকিন পরে থাকেন যেহেতু ব্লাড নেই কাজেই চেইঞ্জের কি দরকার? কিন্তু দরকার আছেই। দীর্ঘসময় থেকে সেইম ইনফেকশনের সমস্যাই হবে। নো ম্যাটার ফ্লো যেমনি হোক সময়মতো ন্যাপকিন চেইঞ্জ করে ফেলতে হবে। বিদেশে প্যান্টি লাইনার বলে এক ধরণের জিনিস পাওয়া যায়। ন্যাপকিনের মতোই দেখতে কিন্তু অনেক পাতলা। স্পটিং বা লাইট মেন্সট্রুয়াল ফ্লো, পোস্ট ইন্টারকোর্স ডিসচার্জ, ইউরিনারি ইনকনটিনেন্স, ডেইলি ভ্যাজাইনাল ডিসচার্জ এবসর্বের জন্য এগুলা অনেকে ইউজ করে। এই জিনিস দেশে পাওয়া যায় কিনা জানি না। যদি পাওয়া যায় তাইলে যাদের মাসিকের ফ্লো অনেক কম তারা ইউজ করতে পারেন।
 
 
আর যাদের নরমাল বা বেশি ফ্লো তাদের আসলে কিছু করার নেই। কাজেই প্যাড সময়মতো পাল্টিয়ে ফেলবেন। অথবা মেন্সট্রুয়াল কাপ কিনে নেন। একবারে একটু বেশি ইনভেস্ট করতে হবে। আমি নিজে এই কাপ ইউজ করি নি যেহেতু ন্যাপকিনেই আমি অভ্যস্ত, তবে ভাবছি করবো। কিন্তু যারা করেছে সবাই প্রশংসা করে। পরিবেশবান্ধবও বটে। একবারে টাকা যাবে হয়তো কিন্তু বেশ কয়েক বছরের জন্য নিশ্চিন্ত। পূজা বা ঈদে একটা জামা কম নিয়ে কিনে ফেলেন। যেহেতু শরীর আপনার, ভাবতেও হবে আপনাকে।
 
 
আর পুরুষ বন্ধুরা যারা আছেন দয়া করে পারলে আপনারাও একটু খোঁজ নিন আপনার সঙ্গী কতক্ষণ একই ন্যাপকিন ইউজ করছে, পরিবারের অন্য মেয়েদের কি অবস্থা। পরিবারের অন্যদের কাছে শুনতে না পারলে অন্য ভাবে জানার চেষ্টা করেন। আজই করেন। অবশ্য মেয়েদের এসব বিষয় তুচ্ছ মনে করে অধিকাংশ পুরুষ।
 
 
এই ২০২০ সালে এসেও এসব বলতে হলে খারাপ লাগে। আর আমি এও জানি গ্রামে বা নিন্মবিত্ত অনেক মেয়েই এখনও কাপড়ই ব্যবহার করে। তাদের কথা ভাবলে আরও খারাপ লাগে।

316 times read

নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।